Thursday, April 28, 2011
ডিজিটাল বাংলাদেশে ইদুরের উপদ্রব!
সারদিনের পর কাজ শেষে বাসায় ফিরে একটু রিলেক্স মুডে বসেছিলাম আমার রুমের ফ্লোরে। বোনদের সাথে কথা বলছিলাম। হঠাৎ আচমকা একটা ইদুর এসে আমার বড় বোনের গায়ের উপর এসে পড়লো। আপা ঝাড়া মেরে ফেলে দিলো ইদুরটাকে অমনি ইদুরটা আমার পায়ে এসে পড়লো এবং লুংগির ভিতর দিয়ে দোঔরাতে চেষ্টা করলো। আমি মুহুর্তেই কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে গেলাম। ইদুরটা আটকে গেলো লুংগির ভিতর। কয়েক মুহুর্ত খামচাখামচির পর ঝেড়ে ফেলে দিলাম ইদুরটাকে। তারপর অনেক ভেবে চিন্তে এই ইদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচার উপায় খুজে বের করতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু পেলাম না। আর তাই আপনাদের পরামর্শ চাইছি।
Sunday, April 17, 2011
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাস উল্টে চারজন নিহত
মেহেরপুরের মুজিবনগরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়াল গাছি বাজারের কাছে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে চারজন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জিঞ্জিরা গ্রামের আশরাফ (৪০), আনোয়ার হোসেন (৪২), রেজাউল হক (২৪) ও রাশেদুল ইসলাম (১৭)। তাঁদের মধ্যে রাশেদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। আহত ব্যক্তিদের চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ভোলানাথ দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জিঞ্জিরা গ্রামের আশরাফ (৪০), আনোয়ার হোসেন (৪২), রেজাউল হক (২৪) ও রাশেদুল ইসলাম (১৭)। তাঁদের মধ্যে রাশেদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। আহত ব্যক্তিদের চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ভোলানাথ দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Friday, April 8, 2011
নিষ্ঠুরতার শিকার| তদন্তের দাবি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের
![]() |
| র্যাবের নির্মম নির্যাতনের শিকার লিমন হোসেনকে দেখতে গতকাল পঙ্গু হাসপাতালে ছুটে যান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান | ছবিটি এটিএন নিউজের সৌজন্যে |
র্যাবের নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় কান্নায় ভেঙে পড়ল লিমন হোসেন। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো উপযুক্ত কথা খুঁজে পাচ্ছিলেন না জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। কেঁদে ফেলেন তিনিও। একটু পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি এখনই, এই মুহূর্তে এ ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করুন। খুঁজে বের করুন, কে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যে এভাবে অস্ত্র প্রয়োগ করে একটি ছোট ছেলেকে পঙ্গু করে...।’ আবেগে বাক্য আর শেষ করতে পারেননি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
তবে নির্মম ঘটনা নিয়ে আগের মতোই বক্তব্য দিয়েছে র্যাব। র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল গতকাল র্যাব সদর দপ্তরে টেলিভিশন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এ রকম একটি পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের কেউ আহত বা নিহত হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কেউ নিহত হয়নি, একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।’
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জল হোসেনের ছোট ছেলে লিমন। কাঠালিয়া পিজিএস কারিগরি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সে। গত ২৩ মার্চ বিকেলে লিমন মাঠ থেকে গরু আনতে বাড়ির বাইরে যায়। পথে স্থানীয় শহীদ জমাদ্দারের বাড়ির সামনে র্যাব-৮-এর একটি দল তাকে সামনে পেয়ে শার্টের কলার ধরে নাম জিজ্ঞেস করে। লিমন নিজেকে ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু র্যাবের এক সদস্য কথাবার্তা ছাড়াই তার বাঁ পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দেন। পঙ্গু হাসপাতালে আনলে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলে দেন।
এই নির্মমতার খবর গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত হলে দুই শতাধিক পাঠক প্রথম আলোর অনলাইনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকে ফোন করেন পত্রিকা অফিসে। তাঁরা সবাই ঘটনার নিন্দা জানান, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন।
লিমনের খবর জানতে সকালেই পঙ্গু হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে ছুটে যান গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা। কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই তাঁরা হতবাক হন ওয়ার্ডের দরজায় তালা দেখে। দুপুর পর্যন্ত কেউ সেখানে ঢুকতে পারেননি। দুপুরের দিকে সেখানে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এরপর লিমনকে দেখতে পান গণমাধ্যমের কর্মীরা।
ওই ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন আমিরুল ইসলাম জানান, সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবল হাসপাতালে আসেন। এর পরই দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ফোন আসতে থাকে। তাঁদের বলা হয়, আইজে ওয়ার্ড বন্ধ করে দিতে। লিমন যাতে কারও সঙ্গে কথা বলতে না পারে, সে ব্যাপারে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফোনের নির্দেশমতো আইজে ওয়ার্ড থেকে অন্য সব রোগীর স্বজনকে বের করে দেয় পুলিশ। তারপর ভেতর থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনেরা জানান, সকাল থেকে আসা গণমাধ্যমের কর্মীরা কক্ষের বাইরে অবস্থান করছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এসে দরজা খুলে দিতে বলেন। তাঁর সঙ্গে সংবাদকর্মীরা ভেতরে ঢোকেন এবং লিমনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান লিমনের কাছে জানতে চান সেদিন কী ঘটেছিল। লিমন তার ওপর র্যাবের নির্মমতার পুরো বিবরণ দেয়। সে চেয়ারম্যানকে বলে, ‘স্যার, আমি জীবনে পিস্তল দেখিনি, আর এখন আমি অস্ত্র মামলার আসামি। আমার কপালে কালির দাগ লেগে গেল।’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তরুণ। নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না চেয়ারম্যান। তিনিও বারবার চোখ মোছেন।
লিমনের সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলার পর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা সব বর্বরতাকে হার মানায়। পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজের কাছে এ ধরনের কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এভাবে আইন প্রয়োগ করেছে যে একজন ছাত্র পঙ্গু হয়ে গেছে। তিনি জানতে চান, অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে এভাবে গুলি করার অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কে দিয়েছে? তিনি এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান। চেয়ারম্যান বলেন, ফিরে গিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে কমিটি গঠনের জন্য বলবেন। কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
লিমনের ওপর নির্মমতার খবর ছাপা হওয়ার পর সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঝালকাঠি ও রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে যান। রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বলেন, ‘লোকজনের কাছে শুনেছি, র্যাব একটি নিরীহ ছেলেকে গুলি করেছে। র্যাবের কর্মকাণ্ড স্বচ্ছতার জন্য এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’
ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সদস্য মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির বলেন, সরকারের কোনো বাহিনীকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন বলেন, অপরাধী হলেও কাউকে বিনা বিচারে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন তরুণ ছাত্রকে গুলি করে পঙ্গু করার অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত।
লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম গতকাল ঝালকাঠির আদালতে গিয়েছিলেন মামলা করতে। এ জন্য তিনি একজন আইনজীবীও নিয়োগ করেন বলে জানা গেছে।
লিমনের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি গতকাল র্যাবের কর্মকর্তারা কয়েকজন টিভি সাংবাদিকের কাছে ব্যাখ্যা করেন। র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার প্রধান এম সোহায়েল বলেন, ‘সব শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ থাকে। ওই তথ্য ছিল আমাদের কাছে। আমাদের কাছে খবর ছিল তাদের কাছে অস্ত্র আছে। তাকে ধরতে গেলে একটা পর্যায়ে সে গুলি করে র্যাব সদস্যদের ওপর। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ রকম পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের যে কেউ আহত বা নিহত হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কেউ নিহত হয়নি। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় লোকদের দ্বারাই সেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওয়ার্ডে তালা মারা থাকায় লিমনের বাবা তোফাজ্জল হোসেনও দুপুর থেকে ছেলের কাছে ঘেঁষতে পারেননি। কমিশনের চেয়ারম্যানের সুবাদে তিনি কক্ষের ভেতরে যান। বিকেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্যার, এদ্দিন অভিযোগই করতে পারি নাই। এহন বোহে (বুকে) অনেক সাহস পাইছি। মুই এ্যার বিচার চামু।’
তবে নির্মম ঘটনা নিয়ে আগের মতোই বক্তব্য দিয়েছে র্যাব। র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল গতকাল র্যাব সদর দপ্তরে টেলিভিশন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এ রকম একটি পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের কেউ আহত বা নিহত হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কেউ নিহত হয়নি, একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।’
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের দিনমজুর তোফাজ্জল হোসেনের ছোট ছেলে লিমন। কাঠালিয়া পিজিএস কারিগরি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সে। গত ২৩ মার্চ বিকেলে লিমন মাঠ থেকে গরু আনতে বাড়ির বাইরে যায়। পথে স্থানীয় শহীদ জমাদ্দারের বাড়ির সামনে র্যাব-৮-এর একটি দল তাকে সামনে পেয়ে শার্টের কলার ধরে নাম জিজ্ঞেস করে। লিমন নিজেকে ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু র্যাবের এক সদস্য কথাবার্তা ছাড়াই তার বাঁ পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দেন। পঙ্গু হাসপাতালে আনলে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলে দেন।
এই নির্মমতার খবর গতকাল প্রথম আলোয় প্রকাশিত হলে দুই শতাধিক পাঠক প্রথম আলোর অনলাইনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকে ফোন করেন পত্রিকা অফিসে। তাঁরা সবাই ঘটনার নিন্দা জানান, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন।
লিমনের খবর জানতে সকালেই পঙ্গু হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে ছুটে যান গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা। কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই তাঁরা হতবাক হন ওয়ার্ডের দরজায় তালা দেখে। দুপুর পর্যন্ত কেউ সেখানে ঢুকতে পারেননি। দুপুরের দিকে সেখানে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এরপর লিমনকে দেখতে পান গণমাধ্যমের কর্মীরা।
ওই ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন আমিরুল ইসলাম জানান, সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবল হাসপাতালে আসেন। এর পরই দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ফোন আসতে থাকে। তাঁদের বলা হয়, আইজে ওয়ার্ড বন্ধ করে দিতে। লিমন যাতে কারও সঙ্গে কথা বলতে না পারে, সে ব্যাপারে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফোনের নির্দেশমতো আইজে ওয়ার্ড থেকে অন্য সব রোগীর স্বজনকে বের করে দেয় পুলিশ। তারপর ভেতর থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনেরা জানান, সকাল থেকে আসা গণমাধ্যমের কর্মীরা কক্ষের বাইরে অবস্থান করছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এসে দরজা খুলে দিতে বলেন। তাঁর সঙ্গে সংবাদকর্মীরা ভেতরে ঢোকেন এবং লিমনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান লিমনের কাছে জানতে চান সেদিন কী ঘটেছিল। লিমন তার ওপর র্যাবের নির্মমতার পুরো বিবরণ দেয়। সে চেয়ারম্যানকে বলে, ‘স্যার, আমি জীবনে পিস্তল দেখিনি, আর এখন আমি অস্ত্র মামলার আসামি। আমার কপালে কালির দাগ লেগে গেল।’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তরুণ। নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না চেয়ারম্যান। তিনিও বারবার চোখ মোছেন।
লিমনের সঙ্গে ২০ মিনিট কথা বলার পর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা সব বর্বরতাকে হার মানায়। পৃথিবীর কোনো সভ্য সমাজের কাছে এ ধরনের কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এভাবে আইন প্রয়োগ করেছে যে একজন ছাত্র পঙ্গু হয়ে গেছে। তিনি জানতে চান, অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে এভাবে গুলি করার অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কে দিয়েছে? তিনি এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান। চেয়ারম্যান বলেন, ফিরে গিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে কমিটি গঠনের জন্য বলবেন। কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
লিমনের ওপর নির্মমতার খবর ছাপা হওয়ার পর সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঝালকাঠি ও রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে যান। রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বলেন, ‘লোকজনের কাছে শুনেছি, র্যাব একটি নিরীহ ছেলেকে গুলি করেছে। র্যাবের কর্মকাণ্ড স্বচ্ছতার জন্য এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’
ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সদস্য মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির বলেন, সরকারের কোনো বাহিনীকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন বলেন, অপরাধী হলেও কাউকে বিনা বিচারে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন তরুণ ছাত্রকে গুলি করে পঙ্গু করার অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত।
লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম গতকাল ঝালকাঠির আদালতে গিয়েছিলেন মামলা করতে। এ জন্য তিনি একজন আইনজীবীও নিয়োগ করেন বলে জানা গেছে।
লিমনের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি গতকাল র্যাবের কর্মকর্তারা কয়েকজন টিভি সাংবাদিকের কাছে ব্যাখ্যা করেন। র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার প্রধান এম সোহায়েল বলেন, ‘সব শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ থাকে। ওই তথ্য ছিল আমাদের কাছে। আমাদের কাছে খবর ছিল তাদের কাছে অস্ত্র আছে। তাকে ধরতে গেলে একটা পর্যায়ে সে গুলি করে র্যাব সদস্যদের ওপর। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ রকম পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের যে কেউ আহত বা নিহত হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কেউ নিহত হয়নি। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় লোকদের দ্বারাই সেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওয়ার্ডে তালা মারা থাকায় লিমনের বাবা তোফাজ্জল হোসেনও দুপুর থেকে ছেলের কাছে ঘেঁষতে পারেননি। কমিশনের চেয়ারম্যানের সুবাদে তিনি কক্ষের ভেতরে যান। বিকেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্যার, এদ্দিন অভিযোগই করতে পারি নাই। এহন বোহে (বুকে) অনেক সাহস পাইছি। মুই এ্যার বিচার চামু।’
ফেসবুকে সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য নতুন পেজ
ফেসবুকে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করার জন্য ‘জার্নালিস্টস অন ফেসবুক’ নামের নতুন একটি পেজ খোলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পেজটি চালু করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে সাংবাদিকেরা অনলাইনে সংবাদ উৎস খুঁজে ও পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রতিবেদন আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।
ফেসবুকের মিডিয়া পার্টনারশিপের পরিচালক জাস্টিন অসোফস্কি একটি ব্লগে জানান, সহজে সংবাদ উৎসের সন্ধান, পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিবেদন সমৃদ্ধ করতে সাংবাদিকদের সহায়তা করাই পেজটি খোলার মূল উদ্দেশ্য। পেজটির মাধ্যমে ফেসবুকের ৫০ কোটি গ্রাহকের সঙ্গে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করতে পারবেন।
২০১০ সাল থেকে ফেসবুক সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অসোফস্কি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে গণমাধ্যমগুলোর ফেসবুক ব্যবহারের পরিমাণ ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘ফেসবুক জার্নালিজম মিটআপ’ নামের একটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এর আওতায় সাংবাদিকেরা কীভাবে ফেসবুকের রিপোর্টিং টুল ব্যবহার করবেন, তার ওপর কয়েকটি কর্মশালা করা হবে। ২৭ এপ্রিল ফেসবুকের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে। পেজটি চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই হাজার ৩০০ গ্রাহক পছন্দের কথা জানিয়েছেন। —এএফপি অবলম্বনে কৌশিক আহমেদ
ফেসবুকের মিডিয়া পার্টনারশিপের পরিচালক জাস্টিন অসোফস্কি একটি ব্লগে জানান, সহজে সংবাদ উৎসের সন্ধান, পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিবেদন সমৃদ্ধ করতে সাংবাদিকদের সহায়তা করাই পেজটি খোলার মূল উদ্দেশ্য। পেজটির মাধ্যমে ফেসবুকের ৫০ কোটি গ্রাহকের সঙ্গে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করতে পারবেন।
২০১০ সাল থেকে ফেসবুক সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অসোফস্কি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে গণমাধ্যমগুলোর ফেসবুক ব্যবহারের পরিমাণ ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘ফেসবুক জার্নালিজম মিটআপ’ নামের একটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এর আওতায় সাংবাদিকেরা কীভাবে ফেসবুকের রিপোর্টিং টুল ব্যবহার করবেন, তার ওপর কয়েকটি কর্মশালা করা হবে। ২৭ এপ্রিল ফেসবুকের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে। পেজটি চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই হাজার ৩০০ গ্রাহক পছন্দের কথা জানিয়েছেন। —এএফপি অবলম্বনে কৌশিক আহমেদ
Subscribe to:
Comments (Atom)

